Total Pageviews

Sunday, 2 December 2012

শব্দ - ছক


শব্দ ছক ১

পুরনো শব্দগুলো ফিরে ফিরে আসে
একঘেয়েমির স্থির প্রতিচ্ছবিতে
কপিকলে অপুষ্টির জীর্ণতা নিয়ে,
রিফু শিল্পের বিচিত্র উদাহরণে ।
রেল স্টেশনের ধুলো মাখা বাচ্ছাগুলোর মত ঘ্যানঘ্যানে -
সেঁটে থাকতে চায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে,
কুয়োর জলে এখন
সিঁদ কাঠির এলোমেলো হাত-পা ছোড়া আর
অজস্র বিরক্তি কার্নিশে, শার্সিতে আর ঝুল বারান্দায়;

শব্দ ছক ২

কিন্তু আমি নতুন শব্দ চাই
জিভ পোড়ানো বেগুনির মত গরম
আর লোভনীয় !
নতুন নোটের মতো  - কড়কড়ে চকচকে
এবং বিনিময় বিশারদ !
উস্কে দিতে পারে যেন স্তরে স্তরে পাট ভাঙ্গা চমক !
চিরুনির মায়া তল্লাশিতে
আলমারির কোণে গোঁজা
তেমন এক কলিচুন  আলো
কখনো আড়মোড়া ভাঙ্গবে কি
এই নৈশ আয়োজনে !!

Friday, 23 November 2012

ভাঙা আয়না এবং


কেমন তোমায় ভুল বোঝায়
জানো কি !
ম্যাজেন্টা রঙের হাসি
কলকল ঠোঁটের হীরক বলয়

চাঁপা ফুলে কান পাতলে কি ?
জং ধরা কোনো তালার ওপার থেকে
ফিস ফিস করে
কথা বলে কিছু
ক্ষুদে লাল চৌখুপি !
রাতের সচল স্বপ্নে একপাশে নিথর ঘুম

তবে  তোমার উদাসীন নীরবতাকে
রাখো এই চিবুক চোঁয়ানো ছোট্ট তিলে

কুচি কুচি  করে
ছিঁড়ে ফেলা
সাদা নীল পেঁজা তুলো
পথ চিনে
বার বার
ফিরে আসে ।
প্রতিবার
সীমান্তের ওপার করে
ভাবি
এই বার
ভুল হয়নি কোনো,
ভুল ভুলাইয়া পথে নির্ঘাত অপঘাতে মরন !

তারপর ছাই ছাই ওড়নাতে কিছু বিকল
মেমরি গেম - জড়সড় দলছুট নিঃস্ব

এখন
দখিনা বাতাস কে ফাঁকি দিতে
সামন্তরিক, রম্বস আঁকি
নরম বালিশে মাথা রাখে
রঙ চটা বিত্তহীন
কিছু শব্দ
অতি সাবধানে পার হয়ে যাই -
অনেক পথ বাকি
অ্যালিসের জানালা তো এখনো খোলা

বাসী তুলির টান

কখনো সেই বিন্দু যেখান থেকে বৃষ্টি পরের সকালের মত ঝকঝকে
তেত্রিশ বাঁক - অলিন্দে সর্পিল শহর ।
অলি গলি খুঁজে আনে বেপরোয়া ভাঁজ
যেখানে নিষিদ্ধ স্বপ্নের কাঁচুলিতে সস্তা ক্রিমের গন্ধ,
নাকের ডগায় সাদা কুচি কুচি বরফ
হাত ছোঁয়াতেই ঝুর ঝুর করে ঝরে পড়ল
অতর্কিত হানায় ভিজলো
রাত বারোটার গভীর ঘুম
হাঁ করে চেয়ে থাকি
মরণ কুয়োতে সাঁই সাঁই করে ঘুরছে
গিট বাঁধা বছর পনেরো
নাগরদোলা অবধি পিছু ধাওয়া করে আসে
ভারকেন্দ্র পাল্টে গেলে অবস্থার পরিবর্তন অনিবার্য
পেনের আঁচড়ে জাহাজটা হালকা দোলে
আবছা আঁকিবুকিতে নোনতা জল
সপসপে ঠোঁটে বিকেল চোঁয়ায়
কষ কষ নিরুপায় যন্ত্রনাকে চেটেপুটে খেয়ে
তৃপ্তির ঢেকুর তোলে ।
শিকর সুদ্ধু উপড়ে ফেলতে তখন দুহাতে
মাটি আঁচড়াই
কখন দম ফুরোয়
ঝুরো মাটিতে কিছু ভাঙা নখের টুকরো ।


Monday, 29 October 2012

সাবমেরিন ১০


সুতোটা ঝুলছে --
অনেকদিন ধরেই ঝুলছে ,
ছিঁড়ে গেল একদিন ব্যাক গ্রাউন্ড স্কোর  ছাড়াই 

তারপর এইভাবেই বারবার 
মিছিমিছি খেলছি
ওয়ার্ডরোবে গুছিয়ে রাখি হাসি হাসি মুখ 

প্রতিটি পরবর্তী ক্ষণ 
উপবৃত্তের নাভিমূল 
আলগোছে পার হয়ে যায় একলা স্পর্শক


পাঁচ পাঁচ দশ !
কৃষ্ণচূড়া লড়াই 
এক থালা চাঁদের তলায় রাস্তা পেরোয় 

ছাতা পড়া ও বাসী
নহন্যতে বিশ্বাস 
গভীর রাতে চুরি করে শ্বাস নিতে চায় 

অন্তেবাসী ৮ : ড্রেস রিহার্সাল


মনে হয় অন্য কোনো কথা
একঝাঁক কখনো দলছুট
ওই বন্ধ দরজার সামনে
অকারণ অথবা কিছু মুশকিল
কখনো থামে না,
বেঁধে রাখাও শক্ত
তবু এই নরম
হাত ভেজানো গরম
শালিকের বুকের মত
জ্যোত্স্না রাতে একলা নিঝুম
কবন্ধের হাহাকার
মায়াবী আলো ছুঁয়ে
আশে পাশে ঠোঁট চাটে
বেমালুম ভুলে যাওয়া
জানা আছে যখন
আর জানা যাবে না কখনো
মাঝখানে হসন্ত জুড়ে
হৃদয়ে লাফ দেয়
স্প্রিং কাটা কিচেন নাইফ

Thursday, 11 October 2012

সাবমেরিন ৯

জানি সময় চোরাবালি;
টেনে নিয়ে যায়
উষর শূন্যতায় 

বদলে যাওয়া চোখের ভাষা 
ছন্দের আঁকিবুকিতে 
কম্পাস আর আলেয়া !

এমনটাই নাকি হওয়ার ছিল !
গুণী বচন অতিক্রমে 
নির্ভেজাল বোকামো
কিছু ছেঁড়া স্বপ্ন, বিবর্ণ  বিশ্বাস 
লেপ্টে থাকে শাপলা মূলে 
সবুজ জল ডুব !

ভালবাসা, দাও দাও কৌপীন
মাধুকরী পাত্রখানি - 
ধুলো পথ অগুরু মন্থন ।।

Sunday, 16 September 2012

কথকতা - ২০


প্রতিদিন যেভাবে অনুভুতির অসহায়তাকে 
আপত্তিজনক ভাবে এড়িয়ে যাই;
কিছু বেওয়ারিশ অক্ষর 
অবাঞ্ছিত ভ্রুণের মত
তবু জন্মের অপেক্ষা করে 
হঠাত শীত এসে জড়ায়
নিজের ভেতর অনুভব করি নশ্বর ক্ষিধে !

অনেক কিছুই চেয়ে দেখিনা 
চোখ কিংবা মন 
হেঁচকি তুলে তখন জলের গেলাসে আশ্রয় 
কিছু পরাধীনতার বিনিময়ে এই স্বাধীনতা আসে
পরিপাটি স্বপ্নের স্বাধীনতা 
নিরাপদ অনাগ্রহের স্বাধীনতা 
সার্বিক অবকলন খুঁজে দিতে পারেনা চরম সীমা !

সাবমেরিন ৮


ওই তিন শব্দে হিম জমে
বিন্দু বিন্দু
আষ্টেপৃষ্টে ;
জলা জায়গা কিছু
নিবিড় আলেয়া ছায়ায়
ধাঁধা সাজায় !
কারণ থেকে চুইঁয়ে
বিশেষ্যে আড়াল খোঁজে -
শব্দে মন বোঝানো সহজ ছিল কবে
যখন সব সকাল-বিকেল ছিল
অনাড়ম্বর ছিল -
দুপুরের ভাত ঘুমের মত,
নয় আর ছয় যখন পনের হত
সহজেই
তখন ও সহজ ছিলনা |

Tuesday, 21 August 2012

সাবমেরিন ৭

অনুভুতি যাম পার হয় এখনো
অবুঝ হিন্দোল 
কখনো শীতল
সাত্ত্বিক কবি ক্লেশ 
বুঝি অপূর্ণতা 
নতুবা কেন কিছু অবাধ্য প্রশ্নচিন্হ
গভীর হয়ে 
দাগ কাটে 
কতো স্তর 
পেরিয়ে এখনো 
মধ্যবর্তী রূপকথারা রাস্তা হারায় 
উদ্বেগ জ্বর 
জুঁইফুল মালা 
শ্বাসে জড়ায়
জিভে তাপ বাড়ে  

Saturday, 11 August 2012

কথকতা ২০


Thursday, 9 August 2012

সাবমেরিন ৬


রুক্ষ চুলে বুনো গন্ধ 
ঢেউ জড়ানো 
সাদা বুদবুদ 
আঙুল শেকল 
ভিজে আল্হাদ 
মিছিমিছি বিন্দু সাজাই
কখনো পাকদন্ডী
মিহি কথা গুঁড়ো
শূন্যে মেশে 
ভাঁজ করা সময় 
রুমালে গিঁট
রঙিন রোদ্দুর ছাতার ছায়ায় 


কিছু নিঃশ্বাস পোড়ে
বিশ্বাসঘাতক 
ওই প্রত্যাশা কুঁড়ি
পরিচিত ও মৃত
কতটা অকিঞ্চিত্কর 
জীবন জুড়ে 
ভুল কর গুনে 
দুহাত ভরা ছাই
স্বপ্ন ফানুস 
ভস্ম থেকে জন্ম 
আবার অকারণ
এখন ছবিরা সাদা-কালো 

অন্তেবাসী ৭ : একটি অসম্পূর্ণ চিত্রনাট্য

গভীর কতখানি নিমজ্জনে তোমাকে পাওয়া আর কেমন ডানায় রাতপরি উড়ান | 
জানালা তো খোলাই | 
অচেনা সুরে পর্দা ওড়ে তোমার |
কাটা ঘুড়ি বেয়ে নেমে আসো - কাছে , আরো কাছে -- 
মাটির ছোঁয়ায় | 
দূরের ওই শুকতারা হয়ে গলে যাই !  
কণ্ঠনালীর ওই বিপজ্জনক চড়াই-উতরাই | 
কাটা লাশে তখন সবুজ পাতা আর কিছু মিথ্যে সাজাই সত্যি অভিনয়ে 

Wednesday, 18 July 2012

অন্তেবাসী ৬ : কিছু সুবাসিত ধূসর !


সোজাসুজি কথা বলা যায়না কারণ কিছু মূলক আশংকা থেকে যায় | বালিশের খোলে সেই সব রাতের ঘ্রাণ অমাবস্যাতে ও নিরস ভাবে জানান দেয় | অনর্থক শব্দ জাল বুনি এবং সেখানে নিজেই ধরা পরি তখন  ইশপের গল্পগুলো মনে পরে |  কিছু অনুপাতের অঙ্ক শেষ বিকেলের গন্ধে ভিজে ডায়েরির পাতায় | করিডোরের কান বাঁচিয়ে রুমমেটের চোখে চোখে | হাত-পা ধুতে আলসেমি তাই রাতের স্বপ্নে চোরকাঁটার খোঁচায় ঘুমের দফারফা | বন্ধ চোখে সুবাস খুঁজি | শিশি ভেঙ্গে তরল উধাও এক নিমেষে গন্ধ তবু দশক জুড়ে |  এখন জানি ওই সুবাস ভীষন দামী | অকারণ চমকে উঠি । ফিরে দেখি গন্ধটুকুই চেনা, বাকিটা  ধূসর | 



Monday, 16 July 2012

খাপছাড়া ডেসিবেল


আমরা কি পরস্পরের জন্য নই? 
অতি পরিচিত হৃদয় ঘটিত উদ্বেগের 
ততোধিক পরিচিত অসৌজন্য;
উচ্চকিত চিত্কারের তর্জমা এক অসহ্য অসহায়তা ; 
তুমি  আমায় ধারণ করো না,
বারণ করো  না
আড়াল ও করো না;
অকারণ উদ্যোগে পুরাতনে জড়াও না, 
সামাজিক শব্দজব্দে একা লড়ে যাই !
হৃদয়ের অসমতলে মুখ ফাঁক করে শ্বাস নেই,
অভ্যাস বশে
সাহায্যে চেনা ঠোঁট খুজি ;
চোখের তলার কালি তোমাকে রোজ চিঠি লিখত,
দিনের আলোয় কখনো খেয়াল করোনি  জানি !
তোমার প্রিয় বাক্য এখনো কি ওই পদ্ম পাতায় জল - 
আমার রোজ দিনের 
বিষাক্ত বিদ্রূপ !
মন ধুয়ে যায় ছোট্ট লাল টিপে - 
তোমার অসাবধান আদর কখনো 
মনে রাখি না, রাখতে নেই 
এখন ঠিক বুঝেছি - তুমি কিছুতেই আমার জন্য না !

কথকতা - ১৯

পুরু নিটোল শব্দের নাগরিক আড়াল 
কখনো ঘন লাল লিপস্টিক বা উদাসীনতা 
রাস্তার পাশে কিছু ব্রাত্য আর অবাঞ্ছিত যেমন বেখাপ্পা ভ্রু 
টাইম কলের জলের মত 
জীবন বয়ে যায় - বাধাহীন !
আপত্তি ও বিশেষ নেই -
ঘনত্ব এখানে সূচক নয়, নিঃশ্বাসের পরিসংখ্যা ও মাপতে পারে না
এইসব জ্যান্ত মানুষ আর তাদের লাশ ডিঙোনো ক্ষিধেকে;
মৃতবত্সা বোধ আশ্বাস চায় 
অথবা শুকনো কয়েকটি টুকরো কাঠ;
অনিবার্য আবার খান্ডব দহন !

Thursday, 5 July 2012

সাবমেরিন ৫



অসহায় কিছু নির্মান তোর শরীর ভেঙে চুরে 
                                                       আঁতুড়ের সোঁদা গন্ধে
                                                           জ্বলছে অস্থি মজ্জা
                                                      হিসেব নিকেশ পুড়ে ছাই 


কলম হারালে নখের আঁচড়ে তোকে রাখি 
তুই বারবার আমায় গিলে ফেলিস রাক্ষুসীর মতো


তোর জন্য আফিমগুলি, 
ঝিমধরা নেশা
নীল বিষ
এই বাগান, সেই উদ্যান 
ফুলের নিঃশ্বাস চুরি
তারপর 
অনুপ্রাণিত ঝাঁপতাল 
শঙ্খ শক্তি জয় 


শিরায় উপশিরায় আরশোলা হয়ে ঘুরিস
তোর দ্রবনে সমসত্ত্ব হয়ে গুলে যাই - অসহায় আমি 


Friday, 29 June 2012

সাবমেরিন- ৪

কী গভীর অযত্নে দবদব করে কণ্ঠনালীর শিরা 
ওই বিপন্ন অস্থিরতা, 
যখন সীমানা পেরোয় 
শালিকের ওড়া ওড়ি - 

নির্মোকহীন মগ্ন উচ্চারণ কখন যে ছোঁয়
হৃদয়ের প্রবাল-স্তর;
অসঙ্কোচ দীঘল স্বর
চোখে চোখ রাখে |

Saturday, 23 June 2012

কথকতা - ১৮


রোজ সকাল আসে - আগের দিনের মতই
একঘেয়ে ঘুমভাঙ্গা রোদ
কিছু কাল্পনিক অসহায়তা আর বাস্তবিক দৈনন্দিন,
অলসতার ক্লান্তি -
পোশাক বদলে আসে
ঠোঁট উপচানো সাদা ফেনা বেয়ে মিশে যায়
অভ্যস্ত প্রাত্যহিকীতে;

কিছু পরিচিত গন্ধ, চেনা কথার টুকরো; পার হয়ে যাই দ্রুত -
আজ আবার চেনা দৃষ্টিকে, পরিচিত সম্ভাষণকে বড় ভয় করে;
বাঁক ফিরলেই জড়তা,অবশ স্নায়ুর কানে কানে প্রথম বীজের মন্ত্র গান
ঝড় আসবেই

রাত পোশাকের আড়ালে রাতকে দেখি
আমার ঘুম ছেঁড়া বারান্দায়
ওই নিথর কালোতে আমি চূঁইয়ে মিশি
ধ্বনিহীন কতো কথা
চেতনায় দ্রবীভূত
নিঃসীম এই রহস্যের বিষন্ন মুগ্ধতা আমাকে
সকাল করে গড়ে |

সাবমেরিন ৩


আমার শব্দেরা রাজনীতি বোঝেনা
বিপ্লব করতে পারে না
সমস্ত ইজমের ছোঁয়া বাঁচিয়ে নিস্ফলা প্রেমের
পরা-বাস্তবতাতে হোঁচট খায় !
তাই শুধুই নাকি অক্ষর বিলাস -
ওই যেমন
সন্ধ্যেবেলা গা ধুয়ে সুগন্ধিতে ভরা ডুবি ;

আমার যাজ্ঞসেনী জয়ী শব্দ-সন্ধান তাই এযাবত নিশানায় রাখে কিছু
মেয়ে মানুষ আর তাদের অজাসুলভ অভিজ্ঞানকে -

মেঘের আড়াল থেকে সাবধানবানীর কোনো সম্ভাবনা নেই
তাই ইশারাতে
যেসকল বুদ্ধিমানদের টিকি বাঁধা থাকে
তারা শুনতেও পারেন,
যাইহোক
তাদের বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে
আয়না লিপি পাঠ শিক্ষার অনুরোধ জানালাম |

সূতিকাঘর পার করতেই হয় যাবতীয় সূচনাকে !

Tuesday, 19 June 2012

জৈবনিক সংশ্লেষ


চাপ চাপ ধবধবে সাদা বরফ
রক্তশূন্য কলজের মত নিঃসাড় আর নিঃস্ব
কিছু মরা বিশেষ্য বেখেয়ালে কষ বেয়ে গড়ায়

উত্স থেকে শুরু
মন্ত্রমুগ্ধ
জমাট রক্ত
কাঁচা ফুল
আর অসময়ে
এক্কা-দোক্কা

মগজ জুড়ে ডেঁয়ো মাছির ভন ভন
হৃদকমলে ব্রহ্মার বদলি
সোনার হরিনের জন্য আকুলি-বিকুলি অব্যাহত !

Sunday, 17 June 2012

একটি দ্বিপ্রাহরিক কবিতা


আঙুর উপত্যকা
বেহিসেবি ঝুঁকি কখনো উল্লাস
উগ্র জুঁই সুবাস
কিছু ক্লেদ জেগে থাকে

কাঠ ফাটা রোদ
বারবেলায় দরজার পাপোষে শীর্ণ ছায়া !
নেহাত ই কিছু ভাঙ্গা-বোতল টিনের সওদা;
এপ্রান্তে নঞর্থক বাঁ হাতি ইশারা -
কপালের ঘাম মোছে ক্লান্তি;
অস্বস্তি সূচক বাড়ে হঠাত !
কিছু প্রশ্নের দাবদাহে
প্রযুক্তির ঠান্ডা বাতাস !

জরাগ্রস্ত বোধ
নিজেকে আড়াল করি -

Friday, 15 June 2012


মানসি-৫

মানসি তুই চলে যা.
যেখানে চোখের খোঁচা নেই..
যেখানে স্বপ্ন দেখবার তারা নেই..
যেখানে হাট্টিমাটিম টিম চিরস্তায়ী..
যেখানে তোর phone তোর কাছ থেকে কেউ কেড়ে নেবে না..
যেখানে তোর পাজামার দড়ি সুরক্ষিত..
যেখানে তোর উন্মুক্ত পায়ে ঠান্ডা হওয়ার আদর..
যেখানে তোর লোমকূপে লালার গন্ধ নেই..
যেখানে তোর কুত্সিত যৌবন লোকানোর চেষ্টা নেই..
যেখানে তোর মরণ নেই..

যা চলে যা..
যেখানে তুই অধিগৃহীত হবি না..

Sunday, 10 June 2012

সাবমেরিন ২


ওষ্ঠে রাখা বিষ
কাদামাটি মাখে
ভুল হিসেব

কতো কথা হয়
তবু ইশারা
ম্যাজিক জানে

অলস দুপুর ঘুম
পুরনো অসুখ
উপসর্গ নতুন

স্মৃতি সততই সুবিধাপ্রিয়
বর্ণ সাজায়
নিপুণ ধারাপাত

বউ কথা কও
শুষ্ক আশ্লেষ
খাদের কিনারায়

অবনী বাড়িতেই থাকে
কড়া নাড়ে
ভুল ঠিকানা

Saturday, 9 June 2012

সাবমেরিন ১


 প্রতিস্পর্ধী কোনো এক ক্ষণ -
যেন আপন করে নেয় বাস্তুহারা এ হৃদয়
উদযাপিত কিছু সংকোচ সিক্ত
অভিমানী জল !

যদিও তখন তীব্র শীত -
অবুঝ আদর হিসেব বুঝে নেয়
কিছু শিশির জমে নাকে আর গালে
সযত্নে মালা গাঁথে ;

যেন মুড়ে রাখা আছে -
যেমন থাকে আধা পড়া বইয়ের পাতা
থিরথির করে কাঁপে অস্থির প্রতীক্ষায়
জীবন এমন ই এখন ।

অনর্থক দীপ হয়ে জ্বলে -
জড়ানো শ্বাসমূলে অবরোধী বেদনা যত,
মরণের কোনো এক নিভৃত ছায়ায়
জানি না কবে যে হারায়!



কথকতা - ১৭



দ্বিধাহীন আমার প্রতিটি উচ্চারণ
মাত্রা অনুপ্রাস কে ফালাফালা করে চিরে
সভ্যতার রক্ত পান করে |
ওই জটিল সমীকরণ আমি গিলে নেই,
বুকের খাঁচায় তো জঙ্গল মহলের বক রাক্ষস ক্ষিধে !
যে নিয়তিকে প্রতিদিন এড়ায় অনুশীলিত ভান
আচমকা কখন রংমশালের আগুনে পুড়ে ছাই !
মুঠিতে বন্ধ আগ্নেয়গিরির ঘুম - মুখোশেরা সাবধান !

কথকতা - ১৬

আমার মতন করে আমাকে খুঁজে নিতে চাই
কিছু নিয়মিত সমীকরণ আর অকারণ আঙ্গিকে 
আমার রোজকার ঘেন্না ! জিভের তলা সুড়সুড় করে
রং করা নখে চাপা পড়ে বিপ্লবের ইচ্ছা, সুযোগ বুঝে 
আবার নেতিয়ে পড়ি ; তবু কোনদিন এভাবেই চেনা 
চাঁদের অর্থ বদলে থাকে, অভ্যস্ত শীতলতায় কালি কলমে 
ঘাড় গুঁজি - বুভুক্ষু কিছু ইচ্ছেকে লালন করি !

অন্তেবাসী ৫ : বৃত্ত বরাবর যখন আড়াল


কিছু ছাই ছাই মেঘ জমে ঈশান কোণে উড়োজাহাজে ভালোবাসা তখন মস্তিস্কের দেয়াল জুড়ে সম ব্যাসার্ধের ছ্যাঁদা কোনো এক ঘুলঘুলি গলে পৌছে যেতে পারি সোনার হরিনের অভয়ারন্যে যাবতীয় বায়না পাশে সরিয়ে রাখি উড়ে যেতে ই পারে স্পিরিটের মত তবু ওই ভিজে মুহুর্তটুকু রুমালে রাখি আর রুমালটা রাখলাম কোথায় যেন ব্যস্ত কিছু টুকরো সময়ের ভাঁজে এইবার ও নিরুচ্চার উদাসীনতাকে অনিচ্ছুক সহযোগিতা করি ফিরে আসতে চাই শুরুর বিন্দুতে কিন্তু জন্ম নেয় এক নিটোল বৃত্ত শুরুতে পৌছনো হয়না

অন্তেবাসী ৪ : কল্প হলেও সত্যি



এ যাবৎ ভালোবাসা জুড়ে কার্ফু জারি
নব্বই ডিগ্রী হিসেবে দুই হাত আর
কদাচিত সংশয় যাতায়াত !

এ ভাবেই বেশ শ্যাওলা জমছিল স্বপ্নটুকুতে
গল্পগাছা হয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গছিল প্রেমের গানে
ঠিক তক্ষুনি শিলাবৃষ্টি !

আর তারপর যা হয়ে থাকে আর কী
বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত
হুরমুরিয়ে অথৈ জলে !

কখন যে পার হয় নিশা-সরণী,দিবা-বীথি
পর্দা জুড়ে টুকরো শব্দ, ছেঁড়া সুর - জুড়ে যায়
ঘোর লাগে অচেনা অবয়বে !

তক্ষুনি যত্ন সহকারে গুছিয়ে রাখি প্রতি লাইন
বহু কৌশল আর নাছোড় রাজনীতি জানতে হয়
প্রতিদ্বন্দী যখন উদাসীনতা !

কথকতা - ১৫


প্রতিটা অক্ষর ঋণ - দেউলিয়া ভাবনার জমা-খরচের
খাতায় বিস্তর ভুল আর কাটাকুটি |
প্রতি মুহুর্তে এক অস্তিত্ব সংকট !
বিপন্ন সৃজন আড়াল চায় -
এখন শুধু ঢেউএর সহজ টানের অপেক্ষা;
জোয়ারের ছোঁয়া এড়িয়ে জলে আলতো স্পর্শ,
ভেসে যেতে আজ বড় ভয় !
তবু ওই নিয়ম ভাঙ্গার ডাক বারবার
আমাকে অবশ করে - টেনে হিঁচড়ে
আনে নিরাপদ আরামের বাইরে !
আমার শব্দকে নিশি ভর করে
ঝাঁপ দেই পাগলামিতে !

অন্তেবাসী ৩ : এবারেও হার - মহাজাগতিক


লক্ষ তারা আর গ্রহেরা আঁকড়ে ধরে পরস্পরকে,
আর মহাজাগতিক শৃঙ্খলে ঘিরে ফেলি তোকে -
তবু তোকে বাঁধতে পারিনা !
ছায়াপথ ধরে অনন্ত হাঁটা - যে গ্যালাক্সির তুই অধীশ্বর
আমি শুধু তাকে কনীনিকায় আনমনে আঁকতে পারি !
ঘুম জড়ানো চোখে ঠোঁটের কোলগেট ফেনায় তোকেই দেখি,
দ্বিপ্রাহরিক উষ্ণতায় ল্যাপলাস থীওরেম সাদা-কালোতে ভেংচি কাটে;
আমার প্রতিটি স্যাম্পলিং স্কীম তোকেই এস্টিমেট করতে চায়!
আমার কন্ঠনালী কিছু বুদবুদের ধাক্কায় বিপর্যস্ত |
তোর রিয়াকশন নির্ভুল অঙ্কে ছোপানো - আমি এবারে ও হেরে যাই !

Wednesday, 30 May 2012

অন্তেবাসী ২ : আবার শুরুর থেকে শুরু

সাতাশ বছরের ইমারত ভেঙ্গে চুরে নতুন
ক্যাকটাসের স্টেজ জুড়ে ছিল যেমন
রঙিন ধোঁয়া - হালকা হ্যালুর কম্বো
তেমন রেটিনা আর ধূসর কোষেও !
এবার আর ভুল হয় না - বোকামিতে ভেজা
ভুলগুলোকে যত্ন করে রাখি বইয়ের মলাটের আড়ালে
লাল-নীল-সবুজের বাহারি প্রদর্শনী থেকে
সন্তর্পনে তুলে আনি কিছু সাদা-কালো -
কর্কশ আঁচড় ঝরায় ফ্যাকাশে কিছু লোহিত্কনা
ঝিনুক মনের নরম আড়ালে জমে কঠিন হয়
জুড়ে দিয়েছি তাই এক এক করে - নির্মান করেছি
সুদীর্ঘ যত্নে; এই তূনীরে আজ অনেক ফেরত বাণ !
এই গভীর এখন অসীম অতল !!
সাতাশ বছরের ইমারতে তাই আজ ভেঙ্গে চুরে নতুন!

Wednesday, 9 May 2012

হলদে চিরকুট - ৫

শুক:  
তোমার মুখে লালচে ক্লান্তি
তোমার মুখে বিন্দু ঘাম
আজ ভেজা চুল বাঁধনি কেন ?
মৌলালি তে তাই ট্রাফিক জ্যাম!

সারী: 
এই, ভোরের স্বপ্ন সত্যি কী হয় ?
আজ ছিল এক মিষ্টি ভোর..
নাম না জানা পাখির ডাক...
বাতাসে শিউলির গন্ধ...
ঝিরঝিরে মিষ্টি হওয়া...
আর তোমার বোকা কবিতারা!


শুক:
কাল রাত ভর / মেঘ ঘনঘোর
মৌন-মুখর / স্বপ্ন নির্ঝর..
ঘুমভাঙ্গা ভোর / তাইতে বিভোর..
কোথা ছিলে তুমি / লয়ে বাহুডোর!


সারী:
তোমার মুখ শুকনো কেন?
চোখের তলায় কালি?
কাল সারা রাত জেগেই বুঝি
স্বপ্ন দেখলে খালি?


শুক:
সেদিন সাঝের আকাশে
তারাদের অফুরান রোশনাই এ
তবু উজ্বল একফালি চাঁদ
যেমন মনের হাজার দুয়ারী তে
অজস্রের অকারণ আনাগোনার মাঝেও
মূর্ত তোমার প্রকাশ!
বানভাসি ভালবাসায় আছে কী বাঁধ ভাঙ্গার ভয়?

Monday, 7 May 2012

কথকতা - ১৪


স্যাঁতসেতে কিছু ইঁট -- শ্যাওলা ছাপ, নোনা দেয়াল
আর অনভস্ত নড়াচড়ায় আধ ভাঙ্গা এক দরজা
পচা কাঠ , হাত ছোঁয়াতেই শিরশির,অসাবধানে
আঙুলের চাপে পিষে যায় কিছু ব্যাঙের ছাতা ;
আঁশটে এক গন্ধ পাক খায় - ওয়াক আসে |
 রুমালের ভাঁজে আত্মবিশ্বাসী সুগন্ধী,
ব্যর্থ আড়াল খুঁজি-- হৃৎপিণ্ড ফালাফালা !
নিজের ছায়ার ওজনে নুয়ে পড়ি আর অনুচ্চারে
ধিক্কার দেই ; কিছু অদূরদর্শিতাকে পাশ কাটিয়ে
সাবধানে পা রাখি ,গোড়ালিতে জমে তবু
পাঁক আর কাদা ;

Wednesday, 2 May 2012

পাসবালিস-১


তুমি আমি মুখোমুখি,
আঙ্গুল ছোওয়ালেই জামা পরিপাটি..
হাতের ছোওয়া, নরম আঙ্গুল..
চোখের বকুনি, চুলের বেনুনি..

হঠাত দেয়াল ভেঙ্গে চৌচির..

বুক-স্তনের ছোওয়া, বেয়াদপ ওরনা..
হার হিম, ঠান্ডা ঘাম..
স্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়.
জ্বলে পুরে আবার আমি টাটকা তাই..

হঠাত খেয়াল ভেঙ্গে চৌচির..

হাত পা কাটা এ কে?
কোথায় তুমি কোথায় তোমার চুল?
থেমে গেল ঝর, থেমে গেল তোর ঠোটের মালিশ..
আমার পাসে আমার পাসবালিস..

কথকতা - ১৩

কোনো আবরণ রাখিনা তাই আড়ালটুকু শুধু
ঋণ - পরিশোধে বিব্রত মূলধন
এই নাকি উন্মুক্ত বাতায়ন ! পদব্রজে পার হয়
যুগাতি বর্ষ - এর জন্য !
সমস্ত আলোচনা মুলতুবি রাখি কোনো এক
নিস্পৃহ স্থিতিশীলতায়
এই মনের অনেক দন্দ্ব, মধ্যযামের ঘন্টাধ্বনি
আগুন জ্বালায়, ছটপট করি
বিরতির পর থাকতে পারে কিছু চমক
এমন ভাবি - হয়তো নির্বুদ্ধিতা
ঘোর ব্যাপারটা সম্পূর্ণ সাময়িক, বুঝেও
যা বুঝতে চাইনা
কিছু অকারণ প্রশ্নবোধক আচড়ায় কামড়ায়
দুমরায় মোচরায়
হৃদয় থেকে চেঁছে ফেলি সমস্তকিছু যা
ঘটাতে পারে ছন্দপতন !

Tuesday, 1 May 2012

সিগারেট-৪


দরকারে, অব্যবহারে, অপব্যবহারে গুগলে সার্চ..
মনের দেয়ালে আঘাত পরলেই রক্তে বারে নিকোটিনের urge..
নীল ধোঁয়া, কালো ঠোঁট, জলের স্রোত..
ছেড়া গেঞ্জি, ঘন দাড়ি, মারামারি..

পুরে ছাই..

খোকন সোনা আর খাবে না..
সাজিয়ে থালা মা বুনছে পঁচা মালা..

খেল্নাওয়ালা..

মেঘ কাটলেই জল..
আর নাড়ি কাটলেই তো আমি সবল..

এখন পুরছিস তুই আমি পুরব পরে..
আজ তুই ছাই আর আমি হব মরে..

সিগারেট-৩


বয়সের অক্লান্ত দৌড়..
মন বাদে সব কালোর-ই সাদার দলে যোগ..
আজ-কাল হৃদয় ও জ্যাঠামি করে..

সন্ধে বেলা চোখ কানা..
রাত দুপুরে বুকের অসুখ..
নিরামিসেও গলায় কাঁটা..

kidney এর মরচে ধরা ছাকনা খানা..
মাঝে মধ্যেই বলে তোর বাঁচতে মানা..

নীল ধোঁয়া, কালো কালি..
ড্রেন এর জলে স্নান..
ঔদাসীন্য দিয়েও ভাত মেখে খেয়েও acidity..
আজও মন আন-চান..

Monday, 30 April 2012

মানসী-৩


বাইরের বারান্দায় ফাঁকা CHAIR .
আজও জানালার পর্দা ফেলা.
আরও একবার চেষ্টা.
আজও SWITCH OFF

সাদা কাগজে LINC এর আঁকিবুকি
জিভে স্যাউলা,
তর্জনী হলুদ,
চোখে মেঘ,
ভাঙ্গা মনে পচা সুতোর সেলাই..

আজও মানসী হাসলেই অদ্ভুত যন্ত্রণার মোচড়..
মনের UNLIMITED MEMORY তে কয়াকটা তর jpeg file আজও রয়ে গেছে..

কথকতা - ১২


উল্কাপাতের শব্দ শুনেছিস কখনো ?
মিছিমিছি কিছু তারা খসে
আমি কিছুতেই পৌছতে পারিনা
আমার স্বপ্নেরাও ব্রুটাস হয়ে আলিঙ্গন করে;
তবু চারকোনায় আমি কাটাকুটি খেলি,
লম্বা শ্বাস নিলে ফুসফুসে অনেকটা অক্সিজেন ঢোকে
সেই তো জানালার পর্দাগুলো টানা,
তবুও নির্লজ্জের মত উঁকি ঝুঁকি,
দেখাটা তো তেমনি রইলো
কাটা ছেঁড়া খন্ড বিখন্ড;
এই পট পরিবর্তন আর ভালো লাগেনা -
বেশ তো ছিলাম
কিশোর-পঞ্চম-হেমন্ত-লতায় !
ওই মিথেন বলয় আমি ভাঙবোই !
অক্ষর ভালোবেসে কখনো তোকে গড়ি
শুধু আমার লোহিত-শ্বেতের ব্যালান্স বিগড়ে যায় |

Friday, 27 April 2012

অন্তেবাসী ১ : এখন হৃদয় আন্তর্জালে


আমি ডানহাতের কড়ে আঙ্গুলে বাঁ হাতের কর গুনি
যোগ-বিয়োগ ব্যাকরণ মানেনা
এক, পাঁচ, বারোতে কিংকর্তব্যবিমূঢ়
হৃদয় রাখি উনত্রিশে তবে কাউকে বলা বারণ !

আমি তখন আঁতিপাতি খুঁজি গোলাপী, ধূসর, কালো
বিছানার অগোছালোতায় হলদে রোদ
অবাধ্য শব্দ, দিশেহারা ভাবনাগুলোকে
লেজকাটা এক নীলচে ফিঙে ঠোঁটে নিয়ে উড়ে যায়;

জানলার স্ল্যাবে ভাঙ্গাচোরা অনেক ঠিকানা, সত্যি-মিথ্যে
সময় ভাঙতেও পেশির জোর চাই
দেয়ালে হেলান, শুকতারা স্মাইলি
ছাই-ছাই রং থেকে উজ্জ্বল সবুজের উত্তেজনা থিতিয়ে আসে |

Friday, 20 April 2012

ভালো-বাসা-বাসি -১১

ভিতরের ঘরে তখন রুদ্ধদ্বার বৈঠক
আকাশ সাজাই তোর চোখের কোনে
ভেজা হাতে আঁক কাটি যেমন ভাঙ্গা
খেলনাবাটি কখনো অবাক হয় আর
বাতিল হয়ে যায় কোনো এক বিকেলে;


তারপর একদিন রাতজাগা শূন্যতারাও
ঘুমিয়ে পড়ে শেষরাতের তারাদের সাথে
আমি কাদামাটি গড়ি, কিছু ভুল সাজাই
কলমদানিতে, মাটি খুঁড়ে তুলে আনি
ভাঙ্গা পেন্সিল, মোম রঙের খালি বাক্স;

কখনো বলা নাও হয়ে থাকতে পারে
তবে না-শোনাই থেকে গেছে বলা যাবেনা
সমীকরণের অনেক মূল থাকতে পারে
বর্ষা নামলে বকুল হয়ে যদি ফোটে, বন্ধ 
জানালা চুইয়ে গন্ধ তোর শরীর জুড়ে।   



Thursday, 19 April 2012

আমার ছেলেবেলা


হঠাত কান্নাগুলো হাত ছেড়ে দর্পপুর্ণ বেলুনের বায়না ধরে.
হঠাত RIB-CAGEএ CALCIUM CARBON-রাসায়নিক বন্ধন মজবুত.
হঠাত ডান অলিন্দের ঢাকনা খুলে উন্মুক্ত চুলের হুরমুরিয়ে প্রবেশ..
হঠাত রেচনতন্ত্রে মশার কামর..
হঠাত রক্তের জলে TRANSFORMATION
হঠাত HIMOGLOBIN কর্পুর
হঠাত হৃতপিন্ডের হাপানি রোগ..
হঠাত গলা শুকনো গ্লাস এ জল নেই..
হঠাত জিভ এর হোচট খাওয়ার অভ্যেস..
হঠাত আমি আলাদা, তুমি ভালো, ওরা খারাপ..
তারপর হঠাত,
চোখের জলক্ষরণ..

Wednesday, 18 April 2012

মানসী-২


চাহিদার সূর্য পশ্চিম আকাশে.
নটে গাছ কব্বে মুড়িয়ে গেলেও
আমার গল্প ফুরোয়নি..

এখনো শুক্রানুর বন্ধু drain এর জল..
আজও মানসী মিথ্যে বলে..
ওর চেনা 'না' আর অচেনা 'হা'
আজ চেনা..
আজও ঘুম থেকে উঠে aciloc-d
আজও নীল ধোয়া স্নান..
আজও ১৯ টা পাখি উড়ে গেল..
আজও বসন্ত আসে..
আজও জানালার ধারের seat টা পেলুম না..

Tuesday, 17 April 2012

মানসী-১


ঘুম ঘুম চোখে বালিশ ভিজিয়ে,
মাটি থেকে তোর আঁচল কুড়িয়ে,
কে যেন চলে যায় চোখ মোছাতে..

নুরি পাথরে সাগর ভরিয়ে ,
চেষ্টার হৃদয়ে প্রাণবায়ু পুরে,
দু হাতে চোখ ডলেও ওপারটা ঝাপসা..

পারে বাধা কাগজের নৌকো,
আম গাছের তলায় ফুসফুসের ফসফসানি,
এক পশলা বৃষ্টি-আবার বালিশ ভিজলো..

PEN-CIGARETTE এর যুদ্ধে জয়ী ওপাড়ার মানসী..
কাঁধের আর বালিশ হওয়া হল না..

Monday, 16 April 2012

ভালো-বাসা-বাসি -১০


কিছু ফুল সাজানো থাকে গোল টেবিলে
বেদম জ্বরে কাবু অতীতের মাথায় অবিরাম
জল্-পটি, আরামকেদারায় শুয়ে আছে
ওথেলোর ছুরি !
আমি আলগোছে ছুঁয়ে ফেলি কখন
জানলার গ্রিলের নক্সাগুলো ঠোঁটে আঁকা
অযাচিত ভাবনারা বিব্রত করে, আমি
হার মানিনা !
কিছু কথা সেভাবেই জন্মায় যেন তাড়া
নেই কোনো ঠিকানায় পৌছনোর, একরাশ
আদিখ্যেতা নিয়ে আঁতলামি করে, আমার ধমকে
কাজ হয় না !
তোমার তীব্র খ্যাপামি বৈশাখী ঝাপটা মারে
চোখে-গালে, জিভে বালি স্বাদ হঠাত বৃষ্টি
নামে, ছাতার আড়াল সাবধানী মনকে শুকনো
রাখতে পারে কই !
  

Sunday, 15 April 2012

সিগারেট-২


তর্জনী মধ্যমার হলদে রং এর ফাঁকে হাসছে কালো,
পোড়াও, পুড়তেও আমার লাগছে ভালো.
নিকোটিন এর আবদারে আজ ঠোটে 6.9
সোয়া ইঞ্চি হাসিতেই সাড়ে তেইস বছর পুরনো রেলগাড়ি বেলাইন.

ছোট্ট জুতো পায়ে গলিয়ে ঘাস মারানো দৌড়..
শ্যাউলা ভেজা মাঠে ছড়িয়ে তোমার রক্তাক্ত নুপুর..
সেই চেনা গায়ের গন্ধের মিছিল আজ SCRAMBLE আবার.
মরচে ধরার সম্ভবনা উড়িয়ে ফুসফুসের দেওয়ালে আজ COAL-TAR.

তবু হাসছে কালো..
পোড়াও তুমি, পুরতেও আমার লাগছে বেশ ভালো..

Friday, 13 April 2012

ভালো-বাসা-বাসি - ৯


ওই ছায়ায় আশ্চর্য এক সুবাস
মিঠে ওমে ভিজে ঝিরঝির করে
গলে পড়ে মায়াময় রূপোলি শব্দেরা 
যারা হেঁটে যেত কোনো এক রাতে 
জীবনানন্দ কবিতা সরণী বেয়ে 
পালাবার পথ নেই জেনেও
রোজনামচা আর আন্হিক গতি ,
খুচরো গুনে তুলে রাখি --
প্রয়োজনে হাত বাড়াই
আগুনে সেঁকে নিলাম পুরনো
কিছু ভুল, গালে আঁকা রেখা ছবি
শুকিয়ে আবছা হয় , এখনো সেখানে
রুমাল বিছানো আর ছেঁড়া ঘাসের মিষ্টি স্বাদ ! 

হলুদ চিরকুট - ৪

যাসনে, যাসনে,ওরে যাসনে;
আল পেরলেই এক সর্বনাশা দেশ !
আমি তখন ছুটছি , ছুটছি... আর ছুটছি...
আমার গলায় রাঙ্গা পলাশের মালা, 
আমার চোখে কনক চাঁপার হলুদ সোহাগ...
গরম বাতাসে আমার চুল উড়ছে ,পুড়ছে ;
শক্ত মুঠিতে ধরা আমার ভীরু হাত...
আমরা ছুটছি...
তারপর একছুটে পেরিয়ে গেছি সেই গণ্ডী ...
যে গণ্ডী পার হলে আর ফিরে আসা যায়না...
তারপর কখন মুঠি আলগা, আমি একা...
কত চেষ্টা করি আবার এপারে আসার;
পারিনা , পারিনা ... কিছুতেই পারিনা ...
এই গণ্ডী পার হলে আর ফিরে আসা যায়না...
এপারে উত্সব... অচেনা মুখ, চেনা মুঠি...
ওপারে ভিজে চোখ ... চেনা দীর্ঘশ্বাস ..
একবার গণ্ডী পার হলে আর যে ফিরে আসা যায়না ! 


Thursday, 12 April 2012

কথকতা - ১১

ওই খানে - ওই বেঞ্চির ওপর,
শিরদাঁড়া সোজা আর মুখের এক
তৃতীয়াংশ সূর্যের সমান্তরাল |

বেয়াদপ !কানে ঢুকছে না কথাগুলো !
ল্যাম্প পোস্টের গায়ে কাদার ছিটে,

ছাল ছাড়ানো মুরগির মত উল্টো ঝুলছে
শতাব্দীর সব বুদ্ধিজীবী শব্দেরা!
ফাঁকা ডাস্টবিন ময়লা ছড়ানো খাওয়ার
টেবিলের আশেপাশে, আবার সেইসব
ছ্যাবলামি রোজ সকালের দাঁত ব্রাশ
আর দুপুরের ভাতঘুমের মত হাই তোলে
ধমকানির শব্দটা শোনা যাচ্ছে না
হাতের তালু কানা -- এইসব বধির চোখ
আর এই বেতের শব্দে চমকাবে না,
শুভ বুদ্ধির গুরুদশায় সব নিয়ম নাস্তি !

Monday, 9 April 2012

কথকতা - ১০

পাথুরে পথের রুক্ষতা শ্যামলী আলো
চোখ ভেসে যায়; শেষ রাতের ক্লান্ত চাঁদ
ভোরের আড়ালে তখন নিকষ সবুজ
আঁকা-বাঁকা পথ সরলরেখা গতি
বায়বীয় যত জটিল সূক্ত, অকারণ তত
কঠিন স্তোত্র; জাতকের কাহিনীর অনিয়ম
স্মৃতি-তর্পণ ! কোনো এক বিস্মৃত বিবর্তনবাদ
সচল কায়াময় -- মস্তিস্কের ধূসরতায় উত্তর
সেইসময় নিরুত্তর, অপটু কোনো চিত্রকরের
নিপুণ কর চাপে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে যায়
দিগন্ত-বলয়; পার্থিব যাবতীয় স্থুলতা লহমায়
অনিকেত এবং সহজ ভারহীন শূন্যতা !
হৃদয় অবগাহনে নিরিবিচ্ছিন্ন নির্বিকল্প প্রশান্তি।

Thursday, 5 April 2012

তোর মেয়েবেলা

কাদা পায়ে পথ চলা ।
অকারন হাঁসি ।
কান্নার কারন খুব গুরুতর।
ছোট্ট ফ্রক এ কাদায় আঁকা পৃথিবীর মানচিত্র।
ঘর ভর্তি আনন্দ।
আর বালতি তে রাখা কান্না।

না, বালতি বাদ। ওটাকে DRAIN এ ফেলে দাও।
নইলে মা কে মিছিমিছি বলব তুমি বকেছ।

মেঘের ওপারে রয়েছে স্বপ্ন বুড়ি।
ভাত খেলে হামি দেবে।
আর না খেলে কিম্বা বায়না করলেই বস্তায় পুরে নেবে।

এখন তোর সংযম এর বেঞ্জিন বলয় থেকে উঁকি দেওয়া বারন।
স্বপ্ন বুড়ি মারা গেছেন।
সেই DRAIN এ ফেলে দেওয়া কান্না গুলি না জানি কোন মন্ত্রবলে আজ তোর স্নানঘরে।
দরজা বন্ধ, চাইলেও খুলতে পারবি না।

Sunday, 1 April 2012

অন্তিম পর্ব

পলাশ ভালো ছেলে , সরকারী চাকুরে
ছিল. এখন আর নেই..
সারাদিন তলা ছেঁড়া JEANS টা পরে ঐ গাছটার তলায় বসে থাকে..


আমি কিন্তু বড় একটা MULTI-NATIONAL BANK এ চাকরি করি..

পলাশ আমার খুব ভালো বন্ধু
ছিল, এখন আর নেই ..

স্বপ্না আমায় ভালবাসে...
পলাশ ভালবাসে স্বপ্নে দেখা স্বপ্না কে,
ভালবাসে স্বপ্ন দেখতে
আর ভালবাসে ভালবাসতে..

আরে বাবা কবিতার ভঙ্গুর অক্ষর দিয়ে কি আর কাউকে বেঁধে রাখা যায়??

"স্বপ্না...... স্বপ্না.......
এক কাপ চা দিয়ে যেও তো..
মাথা টা বড্ড  ধরেছে..."
চা টা ও বেস ভালই বানায়..

সেদিন পলাশের সাথে হঠাত দেখা
অমন সুখন চোখ আমি আগে কোনদিন দেখিনি
মনেহচ্ছে কেউ যেন অর চোখ দুটো খুবলে উঠিয়ে নিয়ে পাথরের চোখ বসিয়ে দিয়েছে...

মনেহয় পলাশ খুব কষ্ট পায়
তবে এখন ও ভালো আছে..
এখন আর ভালবাসে না
ওর অক্ষর গুলই দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত..


পলাশ
ছিল.. এখন আর নেই..

আগামীকাল টুকুনের জন্মদিন..
আমাদের ছেলে টা দেখতে দেখতে কত্ত বড় হয়ে গেল...


ভালো-বাসা-বাসি - ৮


সেদিন জানলার পাশটিতেই ও এসে দাড়িয়ে ছিল
এক মিষ্টি আলোতে ঝলমল করছিল ওর চোখদুটো
আমি অপলক চেয়ে ছিলাম...
ডায়েরি ভাঁজে রাখা কথা গুলো বলব ভাবছিলাম কবে থেকে
ভাবছিলাম মন থেকেই পড়ে নেবে হয়তো
ভালবাসার দৈবত্বে এক হৃদয় বিশ্বাস -- তখন ও

কলিং বেল বাজতেই
বুকের মধ্যে আয়লা আসে;
তারপর দুষ্টু হাসি মাখা একটা 'হাই' !
প্রত্যুত্তরে হালকা হাসি...
চোখ সরিয়ে নেই....ধরা পড়ি যদি !
তারপর ....
গরম চা, মুড়ি-মাখা আর
অবিরাম বকবক,
উচ্চকিত হাসি, ঠাট্টা-ইয়ার্কি;
ফেলে আসা স্মৃতি ছোঁয়া --
দেখা হলে এমনটাই হয়ে থাকে ।
তার সাথে এবার
ওর নতুন চাকরির গল্প,
নতুন আস্তানার গল্প, নতুন ভালবাসার গল্প |

ডায়েরি টা লুকোনো থাকে অন্য বইয়ের আড়ালে...
শুধু গলা টা ব্যথা করে
বুকের মাঝে যন্ত্রণার ফল্গু নদী
এই অবিরাম রক্ত ক্ষরণ উপেক্ষা করেও
ওর গল্প শুনি..
ওর ঠোঁট নাড়া...আলতো হাসি...
কখনো কোচকানো ভ্রু...
যেন পুরীর সমুদ্রের সাদা ঢেউ...
আমি ভাসতে ভাসতে কখন ডুবে যাই ;
অসহ্য কষ্টের ও এমন মায়াবী নেশা !

ডায়েরির পাতাটা কবেই ছিঁড়ে ফেলেছি ;
তারপর থেকে অন্য পাতাগুলো কেমন আলগা হয়ে গেছে,
এখন খুব সাবধানে ব্যবহার করতে হয় |

কথকতা - ৯


বৃষ্টি পড়ছে আঝোর ধারে...
মিশকালো অন্ধকার বড় মায়াবী
চেনা পথটা কেমন একা একা ভিজছে
চেনা মানুষ খুজছে কী!
যারা হেটে যেত একদিন -- মানতোনা
ঝড়ের ঝাপটা, বজ্রের ভ্রুকুটি...
যাদের খুনসুটি - হাসিতে ভিজত বৃষ্টি
ভালোবেসে --

রাস্তাটাকে জানলা দিয়ে খুজোনা যেন...
বৃষ্টি শুধু পড়ে বুঝি গাছের পাতায়, ছাতার মাথায়!
ওই পথকে চেনে তোমার অলিন্দ-নিলয়
ওই নিসঙ্গ নির্জনতা আছে
হৃদয় মাঝে -- কেমন মেঘ জেমেছে
মনের দিকচক্রবালে....
আবার বৃষ্টি হবে -- ভিজতে তোমাকে হবেই...
 নিঃশেষে --

ভালো-বাসা-বাসি - ৭


তোমার প্রতি আঘাতেই বিক্ষত হয়েছি
বারবার এ হৃদয় খুঁড়েছ তুমি; পরম মমতায় 
দাঁতে দাঁত চেপে  সয়েছি
ভেবেছি বৃষ্টি আসবে একদিন
আমি আবার সবুজ হব 
ফুসফুসে ভরে নেব সোঁদা ঘ্রাণ
আমার মনের আলে আলে
লুকোচুরি খেলবে মিঠে স্বপ্নেরা
ঝিরঝিরে বাতাসেরা আবার কানাকানি করবে
হিংসুটে কিছু গঙ্গাফড়িং আবার লাফালাফি করবে
আমার চোখে গর্বিত পরিতৃপ্তির ক্ষমা-সুন্দরতা
তখন জল-ধোয়া রামধনু আর সাত রং 
আমার ক্যানভাস ছুঁয়ে যায় 


Thursday, 29 March 2012

বেঠিক

ছেলেবেলায় মা বলত,"খেয়ে নাও নইলে ঠাকুর পাপ দেবে"
ঠাকুর বোধকরি সত্যি সত্যি পাপ দিয়েছেন..
কিমবা পাপ স্বরূপ আমায় পাঠিয়েছেন..

এখন অন্যায় করতে বাধা নেই..
বন্ধ জানালা, কালো ধোয়ার অরন্যে হারিয়ে গেলাম..
পুতুলের মিষ্টি হাসির চেয়ে উন্মুক্ত নরকঙ্কাল ই লোভনীয় হলো

ভালবাসা কে লুকোচুরি খেলায় হারাতে পারলাম না..
এই একটা প্রতপক্ষ যার কাছে হেরেই সুখ..
মন নাকি অবুঝ??? 

তুই-৩

নিবি রে বাবু ?
বেশি দিতে হবে না চল্লিশ টাকা দিস..
আরো একটা রাত
স্তনের অনেক পুরনো ক্ষতের  পাসে,
আরো একটা নতুন টাটকা ক্ষত জন্ম নিল..
আরো একবার নিবে যাওয়া মন  চিতা জ্বলে উঠলো..

"আর ওর কথা ভাবিস না রে,
তুই যে বেশ্যা.
হা তুই বেশ্যা..
বিশ্বাস না হলে আবরণ খুলে নিজেকে দেখে আয়.
ভিমরি খেয়ে পরে যাস নে  আবার"

হঠাত খিদের জ্বালায় কুচকে যাওয়া পেটের আর্তনাদ
"হাতের চল্লিশ টাকা তা দাও আমাদের
না হলে আবার রাতে আরো চল্লিশ টাকা পাবে কোথায়? "

সত্যি সত্যি তো আর হবে না তাই
শুকনো গোলাপ কে মনে মনেই তরতাজা করে নিতে হয়

Tuesday, 27 March 2012

কথকতা- ৮


হোচট খেয়ে পা যায় পিছলিয়ে
আমি সটান পৌছে যাই এক বোধি জগতে
আমার চারপাশে গিজগিজ করে বাক্য শব্দ 
ভিন্ন বর্ণ রকমফের আকারে 
লম্বা বাক্য, খাটো বাক্য
শ্বেত বাক্য, নিকষ বাক্য
শ্লীল  বাক্য, সেয়ানা বাক্য 
রাজা বাক্য, প্রেত বাক্য  
আমি মিশে যেতে চাই গভীর অভিনিবেশে
ব্যর্থতা চিবুকে রাখে দিকনির্দেশ
যে বাহারে ফুসফুসে অক্সিজেনের যোগান নেই
তার ফুরিয়ে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত
আমি আবার গোছ-গাছ করে নেই 

Monday, 26 March 2012

তুমি-১

সবকিছু না পেয়ে ভালই হয়েছে..


তাই হয়ত আজ ও স্বপ্ন দেখি..
আজ ও গল্প বুনি..
আজ ও কলমের কালি ফুরিয়ে যায়নি..

হাই রে নদী আজ ও তোকে দেখেই অনুমান করতে হয়..
চিরকাল তোকে দেখেই গেলাম..
ডুব দেওয়া আর হলো না..
ভালই হয়েছে..
রহস্য রহস্য থাকাই ভালো..

পাহারে চূড়ায় উঠে গেলে যে তোমায় নাবতেই হবে..
আর তো যাবার জায়গা নেই..
তাই সাধ সাধ ই থাকুক..
আর বেঁচে থাকুক বেঁচে থাকার ইচ্ছে..

তুই-২

বুকের ব্যথাটা আবার বেড়েছে..
ক্রমশ অসহনীয় হয়ে উঠছে..
ব্যথার কারণ ডাক্তারের অজানা আমার নয়..


শ্যামলের চা টা খুব MISS করব..
GOLD -FLAKE ও একজোড়া ঠোট হারাবে..

CIGARETTE SMOKING IS INJURIOUS TO HEALTH
ভালবাসার থেকেও বেশী????

যাবার আগে GOOD-BYE বলে না যাওয়া অভদ্রতা..

তুই- ১

আগুন নেভালে আঁধার হারাবার ভয়..
আলো জ্বাললে আঁধার হারাবার যন্ত্রণা..

বুকের দাবানল যদি তোকেও পোড়াতে চায়??
ঝরে যদি ভাঙ্গে ঘর??

শারীরিক কামসাধক আমি নই..
তবু তোর মনের প্রতিটা অংশ আমার পাতে চাই..

আগুনে পুরতে চাই..
ছাই এর সাথে ভেসে যেতেও চাই..

বুকের দুরমুশটার শব্দ তোর কানে পৌছালো নাকি??
চোখের জল দেখে ফেললি নাকি??

Saturday, 24 March 2012

ভালো-বাসা-বাসি - ৬

অচেনা পথে হঠাত দেখা হয় যদি
ভুল সুরে গাওয়া গান বলে এড়িয়ে যাবে !
তোমার চেনা সকাল, ব্যস্ত দুপুরে কেমন 
নিঃশব্দে মেশে বিস্মৃতি, তুমি টের ও পাওনা;
ধুসর বিকেলে কখন যেন স্বপ্নের সাত রং ভরে
দাও তুমি; ঝরঝরে হাসিতে কখন বিষন্নতা 
লুকোয় - গানের কলির ভাঁজে না বলা শব্দেরা !
জীবন এক মরণ নেশা; পুড়তে পুড়তে 
ছাই হয়ে গিয়ে ও বেঁচে থাকে মাতাল ধোঁয়াতে |
তবু অবচেতনার গোধুলিতে মেশে ভাঙ্গা 
স্বপ্নের লালিমা; আবার সেই চেনা চেনা সংকেত ....
বুকের মাঝে সুনামির বিধ্বংসী তোলপাড় ;  

কথকতা - ৭

নির্জীব কিছু ঘন্টা-প্রহর; পরিচিত শব্দের ঠোঁট বদল
বেওয়ারিশ ভাবনাগুলো কার্নিশের চড়াই -
চড়াইগুলো হারালো কোথায়
নশ্বরতার সেবাদাসত্ব সোনার শিকলে বাঁধা
জীবনের বুকে শ্লেষ্মা জমে
ভিড় এড়াতে ডুব সাঁতার 
রাক্ষস-খোক্ষস, ভূত-পেত্নী
হঠাত জিভে আমলকি স্বাদ
ঘামে ভেজা ক্লান্তির গালে আলতো ছোঁয়া
ভুস করে ভেসে উঠি -
ট্রেনটা ছুটছে ; রেলগাড়ি ঝম-ঝম-ঝম 

কথকতা - ৬


বোবা অন্ধকারে সাদা ফসফরাস জ্বলে
পোড়া ছাইয়ে পায়ের পাতা ডুবাই 
তোমার কথা ভাবি  
দিন মন্থন নির্বিষ প্রবন্ধ উগরায়
বোধি লাভের চেষ্টায় অবিচল নিশিপালন 
ঘুম রাতের বোঝাপড়ার অভাব আমাকে সৃজনশীল করে 
জীবন ছড়িয়ে থাকে চিনির মত আধিক্যের অবচেতনায়;
মৌমাছির মধুঘরে তিল তিল জমে 
কোনো এক পূর্নিমায় চুরি যায়  

সিগারেট

আগের মত তোমার আর তেজ নেই..
আর তোমাতে আগের মত আনন্দও পাই না
ছাড়তে পারব না তোমায়..
কিন্তু আগের তুমি কে আর খুঁজে পাই না..
সেই প্রথম প্রথম তোমায় দেখলেই চোখ দুটো চকচক করে উঠত
তোর জন্যে দিনভর অপেক্ষা
তোর জন্যে অনেক দূর ছুটতে রাজি
তোর জন্যে মিথ্যে কথা
এখন তোর আর এক চুমুতেই মাথা ঘোরে না.
তর জন্যে আর বহুদূর ছুটতেও ইচ্ছে করে না.
আগে তর বিরহে চোখে জল আসত
এখন ছটফট করি..
আগে ছিলি প্রেম আর এখন নেশা..


Thursday, 22 March 2012

ভালো-বাসা-বাসি - ৫

তোমার জন্য ভেসেছি যেন পাগলপারা
নীল সাগেরের সাদা বুদবুদে 
রাঙ্গা পলাশের ছায়া
ছায়া মাখামাখি আদুরে হাসি
তোমার দুচোখ ঘেরা
তোমার জন্য ভেসেছি যেন পাগলপারা ||

তোমার জন্য ঝাঁপ দিয়েছি গভীর অতল
তল জানা নেই দুরুদুরু বুক;
থিরথির সুখ মনেতে মন 
দুষ্টু হাসি ভয় উড়ে যায়
হারিয়েছি আমি নিজেকে তখন
তোমার জন্য ঝাঁপ দিয়েছি গভীর অতল ||


তোমার জন্য দশক পার এখনো হাঁটছি -- 
শেষ জানা নেই, অপেক্ষাতে ও জানি তুমি নেই
দূর ঝলকে তোমায় দেখি -- আলোর বৃত্তে
আনমনে হঠাত হাসো মনের কোণে;
হাসিটুকু রেখে মনের ভাঁজে -- আবার হাঁটি 
তোমার জন্য দশক পার এখনো হাঁটছি || 

কথকতা - ৫

একঝাঁক পায়রা ডানা ঝাপটে উড়ে গেল
শব্দটা রয়ে গেছে কিভাবে স্তব্ধতায় মিশে  
খাঁচার আশেপাশে ; শূন্য বাসায় অপেক্ষার গন্ধ |
পথ টুকু এক ছুটে পার হয়ে যেতে চাই;
নোনতা জলে পিছল বাঁক ; ঝাপসা দিন, অবুঝ ক্ষণ ;
কেওড়াতলার কোল ঘেঁষে জীবনের শশব্যস্ততা 
চোখের কোণে কুয়াশা জমে ...যেমন 
নিয়নবাতির অট্টহাসি ফুটপাথের ঘুমে মেশে লালারস হয়ে  
সত্যের সাথে লুকোচুরি খেলা যাবে না আর  
এবার শুধু তুই আর তোর একলা আকাশ ! 

হলদে চিরকুট - ৩


কবি..
ভালোবেসে কী করতে পারো তুমি?
যোজন পথ হাঁটতে পারো
কবিতা লিখতে পারো আকাশ জুড়ে
একলা হতে পারো মনের কোণে
বাঁশি বাজাতে পারো মিঠে গোধুলিতে 

কবি..
ভালোবেসে কবিতা লিখবে শুধুই?
দিগন্ত জোড়া খোলা মাঠে বৃষ্টি যখন
একলা ঝরে; ভিজবে তুমি?
শান্ত নদীর গহীন জলে বৃষ্টি যখন 
আলতো মেশে; মিশবে তুমি?

কবি...
ভালোবেসে ভয় পেলে কী?
ভয় জয় করার কথা ছিল যে
মনের মাঝে নোনতা যে ঢেউ 
বৃষ্টি সব ধুইয়ে দেবে...
হাসবে তুমি হৃদয় জুড়ে !