Total Pageviews

Friday, 29 June 2012

সাবমেরিন- ৪

কী গভীর অযত্নে দবদব করে কণ্ঠনালীর শিরা 
ওই বিপন্ন অস্থিরতা, 
যখন সীমানা পেরোয় 
শালিকের ওড়া ওড়ি - 

নির্মোকহীন মগ্ন উচ্চারণ কখন যে ছোঁয়
হৃদয়ের প্রবাল-স্তর;
অসঙ্কোচ দীঘল স্বর
চোখে চোখ রাখে |

Saturday, 23 June 2012

কথকতা - ১৮


রোজ সকাল আসে - আগের দিনের মতই
একঘেয়ে ঘুমভাঙ্গা রোদ
কিছু কাল্পনিক অসহায়তা আর বাস্তবিক দৈনন্দিন,
অলসতার ক্লান্তি -
পোশাক বদলে আসে
ঠোঁট উপচানো সাদা ফেনা বেয়ে মিশে যায়
অভ্যস্ত প্রাত্যহিকীতে;

কিছু পরিচিত গন্ধ, চেনা কথার টুকরো; পার হয়ে যাই দ্রুত -
আজ আবার চেনা দৃষ্টিকে, পরিচিত সম্ভাষণকে বড় ভয় করে;
বাঁক ফিরলেই জড়তা,অবশ স্নায়ুর কানে কানে প্রথম বীজের মন্ত্র গান
ঝড় আসবেই

রাত পোশাকের আড়ালে রাতকে দেখি
আমার ঘুম ছেঁড়া বারান্দায়
ওই নিথর কালোতে আমি চূঁইয়ে মিশি
ধ্বনিহীন কতো কথা
চেতনায় দ্রবীভূত
নিঃসীম এই রহস্যের বিষন্ন মুগ্ধতা আমাকে
সকাল করে গড়ে |

সাবমেরিন ৩


আমার শব্দেরা রাজনীতি বোঝেনা
বিপ্লব করতে পারে না
সমস্ত ইজমের ছোঁয়া বাঁচিয়ে নিস্ফলা প্রেমের
পরা-বাস্তবতাতে হোঁচট খায় !
তাই শুধুই নাকি অক্ষর বিলাস -
ওই যেমন
সন্ধ্যেবেলা গা ধুয়ে সুগন্ধিতে ভরা ডুবি ;

আমার যাজ্ঞসেনী জয়ী শব্দ-সন্ধান তাই এযাবত নিশানায় রাখে কিছু
মেয়ে মানুষ আর তাদের অজাসুলভ অভিজ্ঞানকে -

মেঘের আড়াল থেকে সাবধানবানীর কোনো সম্ভাবনা নেই
তাই ইশারাতে
যেসকল বুদ্ধিমানদের টিকি বাঁধা থাকে
তারা শুনতেও পারেন,
যাইহোক
তাদের বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে
আয়না লিপি পাঠ শিক্ষার অনুরোধ জানালাম |

সূতিকাঘর পার করতেই হয় যাবতীয় সূচনাকে !

Tuesday, 19 June 2012

জৈবনিক সংশ্লেষ


চাপ চাপ ধবধবে সাদা বরফ
রক্তশূন্য কলজের মত নিঃসাড় আর নিঃস্ব
কিছু মরা বিশেষ্য বেখেয়ালে কষ বেয়ে গড়ায়

উত্স থেকে শুরু
মন্ত্রমুগ্ধ
জমাট রক্ত
কাঁচা ফুল
আর অসময়ে
এক্কা-দোক্কা

মগজ জুড়ে ডেঁয়ো মাছির ভন ভন
হৃদকমলে ব্রহ্মার বদলি
সোনার হরিনের জন্য আকুলি-বিকুলি অব্যাহত !

Sunday, 17 June 2012

একটি দ্বিপ্রাহরিক কবিতা


আঙুর উপত্যকা
বেহিসেবি ঝুঁকি কখনো উল্লাস
উগ্র জুঁই সুবাস
কিছু ক্লেদ জেগে থাকে

কাঠ ফাটা রোদ
বারবেলায় দরজার পাপোষে শীর্ণ ছায়া !
নেহাত ই কিছু ভাঙ্গা-বোতল টিনের সওদা;
এপ্রান্তে নঞর্থক বাঁ হাতি ইশারা -
কপালের ঘাম মোছে ক্লান্তি;
অস্বস্তি সূচক বাড়ে হঠাত !
কিছু প্রশ্নের দাবদাহে
প্রযুক্তির ঠান্ডা বাতাস !

জরাগ্রস্ত বোধ
নিজেকে আড়াল করি -

Friday, 15 June 2012


মানসি-৫

মানসি তুই চলে যা.
যেখানে চোখের খোঁচা নেই..
যেখানে স্বপ্ন দেখবার তারা নেই..
যেখানে হাট্টিমাটিম টিম চিরস্তায়ী..
যেখানে তোর phone তোর কাছ থেকে কেউ কেড়ে নেবে না..
যেখানে তোর পাজামার দড়ি সুরক্ষিত..
যেখানে তোর উন্মুক্ত পায়ে ঠান্ডা হওয়ার আদর..
যেখানে তোর লোমকূপে লালার গন্ধ নেই..
যেখানে তোর কুত্সিত যৌবন লোকানোর চেষ্টা নেই..
যেখানে তোর মরণ নেই..

যা চলে যা..
যেখানে তুই অধিগৃহীত হবি না..

Sunday, 10 June 2012

সাবমেরিন ২


ওষ্ঠে রাখা বিষ
কাদামাটি মাখে
ভুল হিসেব

কতো কথা হয়
তবু ইশারা
ম্যাজিক জানে

অলস দুপুর ঘুম
পুরনো অসুখ
উপসর্গ নতুন

স্মৃতি সততই সুবিধাপ্রিয়
বর্ণ সাজায়
নিপুণ ধারাপাত

বউ কথা কও
শুষ্ক আশ্লেষ
খাদের কিনারায়

অবনী বাড়িতেই থাকে
কড়া নাড়ে
ভুল ঠিকানা

Saturday, 9 June 2012

সাবমেরিন ১


 প্রতিস্পর্ধী কোনো এক ক্ষণ -
যেন আপন করে নেয় বাস্তুহারা এ হৃদয়
উদযাপিত কিছু সংকোচ সিক্ত
অভিমানী জল !

যদিও তখন তীব্র শীত -
অবুঝ আদর হিসেব বুঝে নেয়
কিছু শিশির জমে নাকে আর গালে
সযত্নে মালা গাঁথে ;

যেন মুড়ে রাখা আছে -
যেমন থাকে আধা পড়া বইয়ের পাতা
থিরথির করে কাঁপে অস্থির প্রতীক্ষায়
জীবন এমন ই এখন ।

অনর্থক দীপ হয়ে জ্বলে -
জড়ানো শ্বাসমূলে অবরোধী বেদনা যত,
মরণের কোনো এক নিভৃত ছায়ায়
জানি না কবে যে হারায়!



কথকতা - ১৭



দ্বিধাহীন আমার প্রতিটি উচ্চারণ
মাত্রা অনুপ্রাস কে ফালাফালা করে চিরে
সভ্যতার রক্ত পান করে |
ওই জটিল সমীকরণ আমি গিলে নেই,
বুকের খাঁচায় তো জঙ্গল মহলের বক রাক্ষস ক্ষিধে !
যে নিয়তিকে প্রতিদিন এড়ায় অনুশীলিত ভান
আচমকা কখন রংমশালের আগুনে পুড়ে ছাই !
মুঠিতে বন্ধ আগ্নেয়গিরির ঘুম - মুখোশেরা সাবধান !

কথকতা - ১৬

আমার মতন করে আমাকে খুঁজে নিতে চাই
কিছু নিয়মিত সমীকরণ আর অকারণ আঙ্গিকে 
আমার রোজকার ঘেন্না ! জিভের তলা সুড়সুড় করে
রং করা নখে চাপা পড়ে বিপ্লবের ইচ্ছা, সুযোগ বুঝে 
আবার নেতিয়ে পড়ি ; তবু কোনদিন এভাবেই চেনা 
চাঁদের অর্থ বদলে থাকে, অভ্যস্ত শীতলতায় কালি কলমে 
ঘাড় গুঁজি - বুভুক্ষু কিছু ইচ্ছেকে লালন করি !

অন্তেবাসী ৫ : বৃত্ত বরাবর যখন আড়াল


কিছু ছাই ছাই মেঘ জমে ঈশান কোণে উড়োজাহাজে ভালোবাসা তখন মস্তিস্কের দেয়াল জুড়ে সম ব্যাসার্ধের ছ্যাঁদা কোনো এক ঘুলঘুলি গলে পৌছে যেতে পারি সোনার হরিনের অভয়ারন্যে যাবতীয় বায়না পাশে সরিয়ে রাখি উড়ে যেতে ই পারে স্পিরিটের মত তবু ওই ভিজে মুহুর্তটুকু রুমালে রাখি আর রুমালটা রাখলাম কোথায় যেন ব্যস্ত কিছু টুকরো সময়ের ভাঁজে এইবার ও নিরুচ্চার উদাসীনতাকে অনিচ্ছুক সহযোগিতা করি ফিরে আসতে চাই শুরুর বিন্দুতে কিন্তু জন্ম নেয় এক নিটোল বৃত্ত শুরুতে পৌছনো হয়না

অন্তেবাসী ৪ : কল্প হলেও সত্যি



এ যাবৎ ভালোবাসা জুড়ে কার্ফু জারি
নব্বই ডিগ্রী হিসেবে দুই হাত আর
কদাচিত সংশয় যাতায়াত !

এ ভাবেই বেশ শ্যাওলা জমছিল স্বপ্নটুকুতে
গল্পগাছা হয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গছিল প্রেমের গানে
ঠিক তক্ষুনি শিলাবৃষ্টি !

আর তারপর যা হয়ে থাকে আর কী
বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত
হুরমুরিয়ে অথৈ জলে !

কখন যে পার হয় নিশা-সরণী,দিবা-বীথি
পর্দা জুড়ে টুকরো শব্দ, ছেঁড়া সুর - জুড়ে যায়
ঘোর লাগে অচেনা অবয়বে !

তক্ষুনি যত্ন সহকারে গুছিয়ে রাখি প্রতি লাইন
বহু কৌশল আর নাছোড় রাজনীতি জানতে হয়
প্রতিদ্বন্দী যখন উদাসীনতা !

কথকতা - ১৫


প্রতিটা অক্ষর ঋণ - দেউলিয়া ভাবনার জমা-খরচের
খাতায় বিস্তর ভুল আর কাটাকুটি |
প্রতি মুহুর্তে এক অস্তিত্ব সংকট !
বিপন্ন সৃজন আড়াল চায় -
এখন শুধু ঢেউএর সহজ টানের অপেক্ষা;
জোয়ারের ছোঁয়া এড়িয়ে জলে আলতো স্পর্শ,
ভেসে যেতে আজ বড় ভয় !
তবু ওই নিয়ম ভাঙ্গার ডাক বারবার
আমাকে অবশ করে - টেনে হিঁচড়ে
আনে নিরাপদ আরামের বাইরে !
আমার শব্দকে নিশি ভর করে
ঝাঁপ দেই পাগলামিতে !

অন্তেবাসী ৩ : এবারেও হার - মহাজাগতিক


লক্ষ তারা আর গ্রহেরা আঁকড়ে ধরে পরস্পরকে,
আর মহাজাগতিক শৃঙ্খলে ঘিরে ফেলি তোকে -
তবু তোকে বাঁধতে পারিনা !
ছায়াপথ ধরে অনন্ত হাঁটা - যে গ্যালাক্সির তুই অধীশ্বর
আমি শুধু তাকে কনীনিকায় আনমনে আঁকতে পারি !
ঘুম জড়ানো চোখে ঠোঁটের কোলগেট ফেনায় তোকেই দেখি,
দ্বিপ্রাহরিক উষ্ণতায় ল্যাপলাস থীওরেম সাদা-কালোতে ভেংচি কাটে;
আমার প্রতিটি স্যাম্পলিং স্কীম তোকেই এস্টিমেট করতে চায়!
আমার কন্ঠনালী কিছু বুদবুদের ধাক্কায় বিপর্যস্ত |
তোর রিয়াকশন নির্ভুল অঙ্কে ছোপানো - আমি এবারে ও হেরে যাই !